ডেস্ক রিপোর্ট:
২০২৫ সালের সফলতা,ব্যর্থতা ও আগামী দিনের সম্ভাবনার হিসেব কষে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ভোরের আলো সাহিত্য আসরের ১২৮৪ তম অনুষ্ঠান।
আজ ২৬ ডিসেম্বর (শুক্রবার) সকাল ৯টায় কিশোরগঞ্জ মডেল থানা মার্কেটস্থ মডার্ণ ডেন্টালে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
বিজয় মাসের শেষ সাহিত্য আড্ডা হিসেবে এতে সভাপতিত্ব করেন ১৯৭১ সনের বীর মুক্তিযোদ্ধা বিআরডিবির সাবেক পরিচালক(পরিকল্পনা,মূল্যায়ণ ও পরীবিক্ষণ), কিশোরগঞ্জের বহু সংগঠনের অভিভাবক, ভোরের আলো সাহিত্য আসরের প্রধান পৃষ্ঠপোষক বীর মুক্তিযোদ্ধাযোদ্ধা মো: নিজাম উদ্দিন।
অনুষ্ঠান আলোচনা,বিষাদসঙ্গীত,কবিতা ও বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে দু’ঘন্টা চলমান থাকে।
সাহিত্য আসরের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ মোঃরেজাউল হাবিব রেজার সঞ্চালনায় শিল্পী,কবি ও আলোচকদের বিষয়াদী সবিস্তারে উপস্থাপিত হয়।কবি মলং আলীমুর রাজী (রাজীব) তার কবিতায় ভোরের আলো সাহিত্য আসরের সদস্যদেরকে ইঙ্গিতধর্মী প্রেরণায় অভিসিক্ত করা হয়। একই সাথে ভোরের আলো সাহিত্য আসরের কার্যক্রমের সূদীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে এবং দীর্ঘকাল তা স্থায়ী রাখতে বিশেষভাবে মঙ্গল কামনা করেন।
কবি-শিল্পী-গীতিকার কবির সরকার তার কবিতায় মৃত্যু পথের সম্বল প্রস্তুত রাখার ধারনায় সকলকে উজ্জীবিত করেন ও শেষে বিয়োগধর্মী একটি সঙ্গীতও উপহার দেন।
অনুষ্ঠানে শিল্পী আলমগীর হোসেন তার পরিবেশিত সঙ্গীতে আত্মদর্শন ও আত্মপর্যালোচনার খোরাক ছিল।যা উপস্থিতিদেরকে ভাবনার জগতে নিমজ্জিত করে।
সাহিত্য আড্ডার মধ্যে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ ছিল ভোরের আলো সাহিত্য আসরের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক শিল্পী মাজাহারুল ইসলামের প্রতি। ২০২৫ সালের শেষ অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি প্রমান করে সংগঠনের প্রতি ভালবাসা কাউকে কোনো প্রতিবন্ধকতাই আটকিয়ে রাখতে পারেনা। শিল্পী মাজহার তার সহোদর বোনকে নিয়ে রীতিমত উৎকন্ঠায় আছে। কারণ তার বোন বর্তমানে ক্যানসারে আক্রান্ত। তার বোনকে হাসপাতালে নিয়ে ক্যামো থেরাপী দেয়া, কিশোরগঞ্জ টু ঢাকা ও ঢাকু টু কিশোরগঞ্জে দীর্ঘ দিন যাবত রীতিমতো আনা-নেয়া তারই লাগাতার কাজ। অনুষ্ঠানে তিনি তার বোনের ক্যানসারে আক্রান্ত ঘাড়ের নষ্ট অংশটি প্রদর্শন করেন, যা সবাইকে ভারাক্রান্ত করে। শিল্পী মাজহার নিজেও ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠেন ততক্ষণে। ফলে দুঃখের দহন নিয়ে বোনের প্রতি মর্মব্যাথী হয়ে গেয়ে ওঠেন—-
“তুমি কী দেখেছো কভু
জীবনের পরাজয়
দুঃখের দহনে করুণ হৃদয়ে
তিলে তিলে তার ক্ষয়”
গানটিতে অশ্রুসিক্ত হয় শিল্পী মাজহার নিজেই। বেদনার মূর্ছনায় বাদ যায়নি কেউই।
তিনি আবেগ তাড়িত হয়ে বলেন: “আমার বোনকে এখন আমি ছাড়া দেখাশোনা করার আর কেউ নেই। তাই আমি এতদিন আসতে পারিনি। তদুপরি বছরের শেষ আড্ডায় খানিকটা হলেও যুক্ত হয়ে আমার ব্যাথার দহন লাঘব করার কিছু চেষ্টা করেছি।”
তিনি আরো বলেন, “আমার বোন এখন আঠারবাড়িতে আছেন। আমাকে এখন-ই ছুটতে হবে সেই দিকে। এখন বিদায় প্রার্থনা করছি।”
শিল্পী মাজহারের এই দায়িত্ববোধের কথা শুনে ভোরের আলো সাহিত্য আসরের এ অনুষ্ঠানের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো: নিজাম উদ্দিন কোনো বক্তব্য না রেখেই তারই উপস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে ক্যানসার আক্রান্ত বোনের জন্য মোনাজাতে হাত তুলেন সবাইকে নিয়ে। অত:পর বোনের দায়িত্বপালনে ছুটি দেন শিল্পী মাজহারকে। শিল্পী মাজহারকে বিদায় দেয়ার পর মুক্তিযোদ্ধা নিজাম উদ্দিন অন্যদের সামনে ইতিহাসের নির্মমতার নিয়ে হৃদয়গ্রাহী কিছু বক্তৃতা দেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “বিজয় মাস চলে যাচ্ছে। কোনোমতে তা পালন করা হয়েছে। যা আমাদেরকে ব্যথিত করছে।” তিনি আরে বলেন-“মুক্তিযোদ্ধাদেরকে স্থানে স্থানে অবমূল্যায়ণ করা হচ্ছে। সাদামাটা আয়োজনে আমরা দুঃখ অনুভব করছি। কেউ কারো সফলতা স্বীকার করেনা। সবার সামনে হাজির করে ব্যর্থতা। ১৯৭১ এ কারণে রচিত হয়নি। নতুনদের নানা প্রশ্নে আন্দোলন হোক, আন্দোলন থাকুক, আন্দোলনের সফলতা আসুক আপত্তি নেই, কিন্তু ৭১’র-কে বাদ দিয়ে যদি কিছু করা হয় তাহলে জাতি শুধু পেছনের দিকেই যাবে, সামনের দিকে নয়। আজ বিদায়ী ২০২৫ সালের ভোরের আলো সাহিত্য আসরের শেষ অনুষ্ঠানে আমাকে দুঃখ-ভারাক্রান্ত হৃদয়ে সেই কথাই বলতে হলো-যা আজ বলার প্রয়োজন ছিলনা।”
তিনি আরোও বলেন,”যা-ই হোক, ভোরের আলো সাহিত্য আসরের কর্মীদেরকে আগামীদিনের সঠিক কর্মপন্থা গ্রহণ করতে হবে। ইতিহাসের কোনো অংশই যেন বাদ না পড়ে যায় সেইদিকে কবি-সাহিত্যিক ও সাংবাদিকদেরকে নজর দিতে হবে। আগামীদিনে আমি কামনা করি, যারা-ই ক্ষমতায় আসুক তারা যেন সুষ্ঠভাবে দেশ পরিচালনা করেন এবং সাহিত্য-সংস্কৃতিসহ ও সাংবাদিক অঙ্গণকে পরিপুষ্ট রাখেন।”
এই বলে তিনি মহান আল্লাহর কাছে মিনতিভাবে “আগামীদিন সবার শান্তিময় হোক,সুখময় হোক” প্রার্থনায় এমন কথা যোগ করেই ২০২৫ সালের বিদায়ী পর্বের শেষ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
Leave a Reply